
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে ইটভাটা ও প্লাস্টিক কারখানাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নজরদারি ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ছয়টি খাত থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) চট্টগ্রামের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের ২১তম সভায় তিনি এ তথ্য জানান। ডিআইএফই, চট্টগ্রাম ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, শিশুদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
সভায় চট্টগ্রামে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুশ্রম বন্ধে আইনি নজরদারি বাড়ানো এবং শিশুদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিষদের সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এনজিও, নাগরিক সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সময়ের সঙ্গে এনজিও ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের পরিধিতে আধুনিক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা বলেন, শিশুদের উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছতা বজায় রেখে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব।
ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার চট্টগ্রামে আসছে। এসব পরিবারের শিশুরা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এনজিওগুলোর সমন্বয় বাড়ানো গেলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সভায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী, শ্রম অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক হাফেজ আহাম্মদ মজুমদার, ডিআইএফইর শ্রম পরিদর্শক বিশ্বজিৎ শর্মা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম এবং ঘাসফুল, প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।